October 13, 2026, 1:20 pm

২০২৬ সালে দেশের অর্থনীতির আকার হবে সাড়ে ৪২ লাখ কোটি টাকা

২০২৬ সালে দেশের অর্থনীতির আকার হবে সাড়ে ৪২ লাখ কোটি টাকা

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে। এর ধারাবাহিকায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৭ শতাংশ থেকেও বেশি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। যা বাংলাদেশের জিডিপিকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে(বাংলাদেশি টাকায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা) নিয়ে যাবে, আর মাথাপিছু আয় উন্নিত করবে ৩ হাজার ডলারে।

বৃহস্পতিবার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের পক্ষ থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল রিসার্চ ব্রিফিং সিরিজ ২০২১-এ গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনাকালে এমনই কিছু কথা তুলে ধরে ব্যাংকটির গ্লোবাল রিসার্চ টিম। ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়াও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রায় ৩০০ ক্লায়েন্ট এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের গ্লোবাল হেড অব রিসার্চ অ্যান্ড চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট এরিক রবার্টসন বলেন, মহামারির কারণে বৈশ্বিক পুনরুদ্ধারের গতি এবং বিতরণ অসম থাকা সত্ত্বেও ২০২০ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছে। আশা করা যায়, একটি জোরদার ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি এবং কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেশটিকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিবিদ সৌরাভ আনান্দ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এদেশের ২০২১ অর্থবছরের প্রত্যাশিত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৫.৫ শতাংশ এবং আশা করা যায় ২০২২ সালে এর বৃদ্ধি ৭.২ শতাংশ এ উন্নিত হবে। দেশের রফতানি চাহিদা পুনরুদ্ধার, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সরকারি বিনিয়োগ দ্বারা এই প্রবৃদ্ধির বাস্তবায়ন সম্ভব। লক্ষ্য যেখানে ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি ৩ হাজার ডলারে উন্নিত করা, মধ্যম আয়ের স্থিতিতে সেখানে পলিসি সাপোর্ট হলো একটি স্মুথ ট্রানজিশনের পূর্বশর্ত।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, বাংলাদেশ সরকারে দূরদর্শী এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ গুলোর কারণে বাংলাদেশ মহামারিকালের বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই বেশ ভালো ভাবেই অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে আমরা আশাবাদী। এছাড়া ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি যেহেতু অব্যাহত রয়েছে তাই অর্থনীতিও ক্রমান্বয়ে ত্বরান্বিত হচ্ছে, এছাড়াও অপেক্ষাকৃতভাবে কম ডেবট-জিডিপি রেশিও দেশের জন্য একটি ফিসক্যাল রানওয়ে তৈরি করেছে। টেকনোলজি অ্যাডাপশন, টেকনোলজি ইনক্লুসিভনেস এবং আইটিইএস সেক্টরের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে, আর সহায়ক শাসনপ্রণালী বেসরকারি বিনিয়োগ এবং এফডিআইকে ত্বরান্বিত করবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ, সরকার এবং আমাদের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আবারও আমাদের অসাধারণ স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে। এর ফলে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমরা সঠিক পথেই অগ্রসর হচ্ছি। একটি ব্যবসায়-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ পরিবেশের মাধ্যমেই আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির যাত্রায় অগ্রসর হতে পারবো।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com